
রাঙামাটি প্রতিনিধি:
রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা কৃষক লীগের সভাপতি অনিল তনচংগাকে অপহরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ কার্যালয়ে হামলা করেছেন রাঙামাটি আওয়ামী লীগসহ এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। হামলার সময় পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় (সন্তু) লারমা কার্যালয়ে উপস্থিত থাকলেও তিনি অক্ষত রয়েছেন। তবে হামলায় সন্তু লারমার কক্ষ, তার ব্যবহূত গাড়ি, সদস্য উষাতন তালুকদারের কক্ষ, পরিষদের অন্যান্য গাড়িসহ কার্যালয়ের সামনের কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুর চালান বিক্ষুব্ধরা। হামলায় কয়েক পুলিশ সদস্য আহত হলেও আঞ্চলিক পরিষদের কেউ হতাহত হননি। এদিকে হামলার পর এক সংবাদ সম্মেলনে হামলার কথা অস্বীকার করেছে আওয়ামী লীগ।
রাঙামাটির কাউখালী থানার ওসি শ্যামল কান্তি বড়ুয়া জানান, গতকাল সকাল ১০টার দিকে রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়নের নিজ বাড়ি থেকে সিএনজি অটোরিকশাযোগে রাঙামাটি আসার পথে তার আওতাধীন এলাকা কাপ্তাই-রাঙামাটি সড়কের বগাপাড়া থেকে অনিল তনচংগাকে অপহরণ করে অস্ত্রধারী পাঁচ সন্ত্রাসী। এ খবর রাঙামাটি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা তাত্ক্ষণিক রিজার্ভ বাজার পুরনো বাসস্ট্যান্ডের জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে একটি লাঠি মিছিল বের করেন। অপহরণের ঘটনায় জনসংহতি সমিতিকে দায়ী করে তারা আঞ্চলিক পরিষদ কার্যালয়ে হামলা চালান। পরে রাঙামাটি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এক প্রতিবাদ সমাবেশে বিকেল ৫টার মধ্যে অনিলকে মুক্তি দেওয়া না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন।
এদিকে হামলার পর আঞ্চলিক পরিষদে হামলাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সমর্থিত সংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) ও যুব সমিতির কর্মীরা রাঙামাটি-চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরে প্রশাসনের কাছে হামলাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস পেয়ে পিসিপিকর্মীরা অবরোধ তুলে নেন। বিকেল ৪টায় নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ নেতারা আঞ্চলিক পরিষদ কার্যালয়ে হামলার জন্য আওয়ামী লীগ দায়ী নয় বলে দাবি করেন। এ ছাড়া হামলার সময় অনিল তনচংগাকে অপহরণের জন্য জেএসএস-কে দায়ী করলেও সংবাদ সম্মেলনে তারা এ বিষয়ে কিছুই বলেননি। সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মাহবুবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক হাজী কামাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। রাঙামাটি পুলিশ সুপার (এসপি) জানান, অনিলকে উদ্ধারের জন্য পুলিশের অতিরিক্ত তল্লাশি টিম কাজ করছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।